চারজন বন্ধুর একটা সুন্দর ট্যুরের কাহানী
আমরা চারজনেই এই বারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা কোন একটা জায়গায় ঘুরতে যাবো। কোথায় ঘুরতে যাবো এটা সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের তেমন কষ্ট হলো না কারণ চারজনেই কক্সবাজার যেতে আগ্রহী। আমাদের সাথে Asadulla Hil Galib (গোল টমেটো) যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু কোন একটা কারণ তার যাওয়া হলো না। এই গোল টমেটো রে আমরা অনেক মিস করেছি। ইতা গেলে হয়তো আমাদের ট্যুরটা পরিপূর্ণ হতো। যাক আল্লাহ যা করে তা ভালোর জন্য করে এই চিরসত্য বাণীটা মাথায় রেখে তা মেনে নিলাম। ট্যুরে যাওয়ার একদিন আগে আমরা সবাই ট্যুরের জন্য শপিং করি। সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম একই ধরনের জামা নিব। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা নেওয়া হলো। কিন্তু কাপড় নেওয়াতে আমাদের বাজেটের একটু ক্ষয় হলো। আমার দুই বন্ধু এর পরের দিন বলতেছে তাদের নাকি বাড়ি থেকে পেশার দিচ্ছে। ট্যুরে যাবে কিনা এখনও নিশ্চিত না। ওরা বলল সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানাবে। কিন্তু আমি কোন একটা কারণে এরপর অফলাইনে গেলাম। এরপর মাগরিবের সময় গেছিলাম একটা টিউশনি করাতে। টিউশনের শেষ দিখে দেখি আমার লাল বন্ধু Kafi Aman II এর কল। টিউশন থেকে বাহির হইয়ে লাল বন্ধুর সাথে কথা বললাম। ইতা বলতেছে রাত ৯:০০ টার মধ্যে কেরানীহাট পৌছাতে। কাল সকাল ৭:০০ টার মধ্যে রওনা দিবে। এই কথা গুলো শুনে আমি তাড়াহুড়ো করে আম্মুর কাছে গেলাম। আম্মু বলতেছে আমাকে এতদিন বলিস না কেন। আম্মুকে বুঝিয়ে বললাম এটা হঠাৎ করে প্যান নিয়েছে আমার বল্টু গুলো। অনেকক্ষণ বুঝানোর পর অবশেষে আম্মুকে রাজি করালাম। এইবার আব্বুকে বুঝানোর পালা। আব্বুকে বলতে সাহস হচ্ছিল না আম্মুকে বললাম আপনি বলেন একটু করে তারপর আমি বলবো। আম্মু বললো এরপর আমি শুরু করলাম। আব্বু শুনে না করে দিল। কিন্তু অবশেষে আম্মু আর আমি বুঝানোর পর রাজি হলো। আহ, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাপড় চোপড় গোছানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলাম। অতপর আম্মু আব্বু থেকে বিদায় নিয়ে কেরানীহাটের জন্য রওনা হয়ে পরলাম। এই দিখে আমার বল্টু RI DU AN কল দিল। আমি কল ধরে ওর সাথে মজা করে বললাম দোস্ত আমি তো যেতে পারছি না। তোরা সাবধানে যাইস। ওইদিখ থেকে জবাব দিল বেডা মসকারি করিস! তোর জন্য আমি এখনো কেরানীহাটে দাঁড়িয়ে আছি। আমি বললাম ওকে আমার লক্ষী সোনা বল্টুটা তুমি দাঁড়াও আমি যাচ্ছি। আল্লাহ রহমতে অবশেষে কেরানীহাট পৌঁছলাম। তারপর ইতারারে কল দিলাম। হ্যালো কোথায় বাবুরা। ওইদিখ থেকে জবাব এলো স্কুলের দিকে চলে আই। আমি বললাম ওকে দাঁড়া যাচ্ছি। তারপর স্কুলের দিকে গিয়ে সবাই মিলে প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে দেখা করার জন্য হোস্টেলের দিখে গেলাম। তারপর স্যারের সাথে কথা বলতে বলতে আমার খাদক বন্ধু গুলো এক গামলা পুতা ঝাল মুড়ি শেষ করলো। অতপর আমরা স্যারের সাথে বাহির হয়ে গেলাম। স্যারের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে বিদায় নিলাম। এরপর কাফি আর R S Kibria চলে গেল তাদের বাসায় আর আমি আর রিদু গেলাম রিদুর বাসায়।তারপর রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে সব গুছিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু ঘুম তো আসে না। খালি ট্যুরের কথা মনে পড়তেছে। কাল কি কি করবো তা চোখে ভাসতেছে। যাক অবশেষে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোরে ঘুম থেকে ফজরর নামাজ আদায় করে আন্টির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাহির হইয়ে পড়লাম। বাহির হয়ে রানারে কল দিলাম। রানু কোথায় তুমি...? ওইদিখ থেকে জবাব এলো তোরা কি শপিং করছিস যে ওই গুলো পড়ছিস যে। দেখেন তো কেমনডা লাগে। তার মানে এখনো কাপড় পড়ে নাই। তারপর কল দিলাম কাফিরে কিরে বাবু কোথায় তুমি.... ওইদিখ থেকে জবাব এলো বেডা ভাইয়া আছে এখন বাহির হতে পারছি না তোরা কোথায় এখন। আমি জবাব দিলাম রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা। ওইদিখ থেকে জবাব এলো দেখি ছবি দে তো তোদের আবার বিশ্বাস নাই। যাক আর কি করার ছবি তুলে পাঠালাম। ওইদিখ থেকে জবাব এলো মামা তোদের জটিল লাগতেছে। আমি জবাব দিলাম তোরে ইন হনে হইতো হয়ি মা**রি। তাড়াতাড়ি বাহির হয় বেডা। অবশেষে আমি আর রিদু ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার। অতপর তারা এলো।
তারপর সকালের নাস্তা সেরে বাসে উঠে পড়লাম। সকালের জার্নিটা খুব ভালো লাগছিল কিন্তু ভালোটা বেশিক্ষণ থাকা হলো না প্রথমে রিদু এরপর আমি বমির কার্যকমটা শেষ করলাম। শালার বমি ছাড়া বুঝি আমাদের একটা ট্যুর ও সম্পূর্ণ হবে না। এই দিখে বমি করার কারনে রানু গালাগালি করতে লাগলো। যাক অবশেষে আল্লাহর রহমতে কক্সবাজার পৌঁছে গেলাম। এরপর প্রথমে আমাদের ফটোশেশনের কাজটি শেষ করলাম। এরপর স্পিডবোডে চড়লাম এখানে রানা মিস। কারন ইতার নাকি পানিতে নামতে ভয় করে। অনেক বুঝালাম কিন্তু কাজ হলো না। এরপর আমরা কক্সবাজারের ঢেউ এর সাথে কিছু মূহুর্ত কাঠালাম। আহ, শান্তি। এরপর অনেকক্ষণ সমুদ্র সৈকত কে উপভোগ করলাম। বেশ কিছুক্ষণ সমুদ্রে কাঠানোর পর সবাই ক্লান্ত হয়ে গেলাম। আমরা বুঝতে সক্ষম হলাম এখন আমাদের খাবারের প্রয়োজন। তাই সবাই ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরপর সবাই মিলে একটা ভালো থেকে হোটেল খুঁজতে লাগলাম। অবশেষে একটা মানসম্মত হোটেল পেলাম। অতপর দুপুরের খাবারটা তৃপ্তি সহকারে খেয়ে শেষ করলাম। খাবার শেষ হোটেল থেকে বাহির হবো এমন সময় রানার মেঝ মামি কল দিয়ে বলল তুই নাকি কক্সবাজার আইছিস। তোরা এখন আমাদের বাড়িতে চলে আই। রানা সবাইকে জিজ্ঞেস করে জানাবে বলছে। এখন কাফি বলল আম্মুকে কল দিয়ে জানাতে হবে। প্রথমে কাফির আম্মু দ্বিমত পোষণ করলেও পরে আমরা বুঝিয়ে বললে রাজি হয়। এরপর সবাই রানার মামির বাসার দিকে রওনা দিলাম। সুগন্ধা বিচ থেকে রানার মামির বাসার ভাড়া ৬০। বেশি দূর না...। শত কল্পনা জল্পনা শেষে আমরা পৌঁছে গেলাম রানার মামির বাসায়। মামির বাসাটা অনেক সুন্দর। পৌছেয় ধুমধারাকা নাস্তা চলল। নাস্তা শেষ করে সবাই বসে পরলো মোবাইল নিয়ে। এই দিখে মোবাইল টিপতে টিপতে কোন দিখে বেলা শেষ হয়ে সন্ধ্যা নেমে আসলো কেউ বুঝতে পারি নাই। সবাই আফসোস করতে লাগলাম। এরপর সবাই তাড়াহুড়ো করে মামির বাসা থেকে বিচের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। যাওয়ার সময় যে গাড়িতে উঠলাম। সে গাড়িতে ধুমধারাকা গান চলতেছে। ড্রাইভার মামারে বলে একটা বাংলা গান দিয়ে সবাই একসাথে গান ধরলাম। গান গাইতে গাইতে কখন যে বিচে পৌছে গেলাম টেরও পেলাম না। তারপর অবশেষে বিচে পৌঁছলাম। পৌঁছে চার জন বন্ধু মিলে নিস্তবদ্ধ থেকে সমুদ্রের সন্ধ্যার গর্জনটা উপভোগ করলাম। এরপর সমুদ্রের পাড়ে হাঁটতে হাঁটতে মজা করতে করতে মুহূর্ত গুলো উপভোগ করলাম। প্রায় অনেকক্ষণ মজা আর গান ধরার পর সবাই একপাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখলাম দুই বন্ধু মিলে গিটারের সুরে সুরে গান গাইতেছে। আমরাও হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে গেলাম তাদের দিকে। গিয়ে সবাই মিলে তাদের সাথে গান ধরলাম। আহ, কি সুর কি গান। প্রায় অনেকক্ষণ ছিলাম। এরপর রানা তাড়া দিছিলো মামির বাসায় যাওয়ার জন্য। তাই সবাই আবার মামির বাসার দিকে রওনা দিলাম। বাড়ি পৌছেই মামির পরিবারের সবার সাথে মিশে গেলাম। লাগতেছিলো আমরা অনেক আগেই থেকে মামির পরিবারের সঙ্গে পরিচিত। রাতে আমাদের জন্য যে আয়োজন করেছিল তা দেখে আমরা সবাই অবাক। এত কিছু....। আসলেই মামির পরিবারটা অনেক সুন্দর। সবাই খেয়ে ধেয়ে একটা রুমে ঢোকে পড়লাম। তারপর আড্ডা, মজা, মোবাইল টিপাটিপি করতে লাগলাম। প্রায় ২:০০ টার দিকে ঘুমালাম। দুষ্টামি করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম তা বুঝতে পারি নাই। সকালে ঘুম থেকে উঠলাম ৯:০০ দিখে । উঠেই চার বন্ধু মিলে দুষ্টামি আর মজা শুরু করে দিলাম। অতপর ফ্লেশ হয়ে নাস্তা সেরে মামির পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম অজানা উদ্দেশ্য। এই দিখে রানার আম্মু কল দিয়ে বলতেছে ইতার নানুর বাসায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু এই দিখে আমাদের বাজেটের অবস্থা খারাপ। বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। বাড়িতে আসার জন্য রওনা দিলাম কিন্তু গাড়িতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলো যেহেতু এখন ঠিক দুপুর আমরা চাচ্ছি এখন না যাওয়ার জন্য। প্রথমে সিদ্ধান্ত নিলাম বিচে যাবো কিন্তু সিদ্ধান্ত আবার পরিবর্তন হলো আমরা রানার নানুর বাসায় যাচ্ছি। অবশেষে আমরা সিলেনে করে রওনা দিলাম রানার নানুর বাসায় যাওয়ার জন্য। আসলে এই ট্যুরে আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি আমরা হুট করে সিদ্ধান্ত চেন্জ করে পেলার মতো কঠিন কাজ করতে সক্ষম হয়েছি। এটা আমরা পেরেছি কারণ আমাদের চার বন্ধুর মনের মিলের জন্য। এরপর আমরা রানার নানুর বাড়ি অর্থ্যাৎ রাবেতার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর যে দৃশ্য গুলো দেখলাম তা দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেল। কি মনমুগ্ধকর দৃশ্য। বাতাসের ঠান্ডা হাওয়া। আহ, অসাধারণ আবহাওয়ার এবং অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য। এগুলো দেখে মনে হলো আসলেই একটা পরিপূর্ণ ট্যুর দিলাম। ফাইনালি আমরা রাবেতা পৌঁছলাম। এরপর সবাই একটা দীর্ঘশ্বাস নিলাম। তারপর একটা ছোট নদী ফার হয়ে কিছুদূর হাঁটার পর রানার নানুর বাড়ি পৌঁছলাম। পৌছে নানু আমাদের জড়িয়ে ধরলো। আহ, ভালোবাসা। তারপর গিয়ে সবাই একটা রুমে শুয়ে পড়লাম। সবাই খুব ক্লান্ত। এরপর ফ্লেশ হয়ে দুপুরের খাবারের জন্য প্রস্তুত হলাম। খাবারের আয়োজন দেখে সবাই আবার অবাক। আসলে মাটির ঘরের মানুষ গুলোর মন মাটির মতো হয়। দুপুরের খাবার শেষ করে উঠানে পাড়ি বিচিয়ে সবাই আড্ডা জমালাম। আড্ডা করতে করতে কখন যে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারি নাই। এরপর নানু আর নানীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলাম। সবশেষে আল্লাহর রহমতে আমরা সুন্দর ও সার্থক ভাবে আমাদের ট্যুরটা শেষ করলাম। রাত ৮:০০ দিখে আমরা কেরানীহাট পৌঁছালাম। আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর কাছে লাকো কোটি শুকুরিয়া এমন একটা সুন্দর ভ্রমণের জন্য।দোস্ত তোকে প্রত্যেকটা ট্যুরের অনেক মিস করি। তোই সহ আমরা ছয়জনে একটা ট্যুর দিতে পারলে হয়তো বেশি ভালো হতো। ইনশাআল্লাহ আশা করি আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে পরবর্তী ট্যুরে তোদের নিয়ে আবার কোন এক অজানা অচেনা জায়গায় ভ্রমণ হবে। এই পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বাঁচিয়ে রাখুক। যারা আমাদের এই কাহিনীটি সম্পূর্ণ পড়েছেন সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ
-শাহরিয়া ইমরান ফাহিম

0 Comments